বিপণন প্রসার পরিকল্পনা আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ও এসবিবিএ ৩৫০৫ বিপণন প্রসার” এর “বিপণন প্রসারের সূচনা” ইউনিট ১ এর অন্তর্ভুক্ত।
বিপণন প্রসার পরিকল্পনা
বিপণন প্রসার পরিকল্পনা বলতে কোম্পানির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে অর্জনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রসার কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য কখন, কোথায়, কার দ্বারা, কীভাবে, কি কর্ম সম্পাদন করা হবে তার পূর্ব নির্ধারিত কর্মপন্থা প্রণয়নকেই বুঝায়। প্রসার পরিকল্পনা কোম্পানির সকল প্রচারমূলক কৌশলগুলোর রূপরেখা প্রণয়ন করে যা বিপণনের উদ্দেশ্যগুলোকে অর্জনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ছাড়া ফলপ্রসূ প্রসার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না এবং কাঙ্ক্ষিত বিপণন উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব হয় না। প্রসার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তাই বিপণন ব্যবস্থাপককে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রকম কাজ সম্পাদন করতে হয়।
বিপণন প্রসার পরিকল্পনা (Marketing Promotion Planning):
বিপণনকারী তার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের বিপণন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য পূর্ব থেকেই যে কর্মপন্থা বা নকশা প্রণয়ন করে তাকে বিপণন প্রসার পরিকল্পনা বলা হয়। কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য এবং সেবাগুলোতে ভোক্তাদের মনোযোগ আনতে এবং নতুন গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে নানারকম প্রসার কার্যক্রম চালায়। কার্যকর প্রসার পরিকল্পনা করার মধ্যে রয়েছে বাজার মূল্যায়ন, একটি কৌশল তৈরি করা এবং ফলাফল গুলোকে মূল্যায়ন করা।
অর্থাৎ, প্রসার পরিকল্পনা বলতে পণ্য বা সেবা বাজারজাত করার জন্য প্রচারণা চালানোর কার্যকর পদ্ধতি প্রণয়ন করাকেই বুঝায় । বিপণন প্রসার পরিকল্পনা হলো পণ্যের চাহিদা তৈরি এবং কোম্পানির নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে একটি পণ্য এবং সেবার প্রসারের জন্য ব্যবহৃত নানারকম বিপণন সরঞ্জাম, কৌশল, এবং সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া।
এ প্রসঙ্গে O’guinn, Allen, Semenik and Scheinbaum বলেন “A promotion plan specifies the analysis, strategy, and tasks needed to conceive and implement an effective promotional effort.” অর্থাৎ, প্রসার পরিকল্পনা বলতে একটি কার্যকর প্রসারমূলক প্রচেষ্টার ধারণা অনুধাবন করতে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ, কৌশল এবং কাজগুলো নির্দিষ্ট করে দেওয়াকে বুঝায়।
এ প্রসঙ্গে Evans and Berman বলেন, “Promotion planning is systematic decision making relating to all aspects of an organizations and individual’s communications effort”. অর্থাৎ, প্রসার পরিকল্পনা হলো একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির যোগাযোগ প্রচেষ্টার সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিপণন প্রসার পরিকল্পনা মূলতঃ কোম্পানির সামগ্রিক বিপণন পরিকল্পনার একটি উপাদান, যা বিক্রেতা এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে সব ধরণের যোগাযোগকে নির্দেশ করে। প্রসার পরিকল্পনা কোম্পানির সকল প্রচারমূলক কৌশল গুলোর রূপরেখা প্রণয়ন করে যা বিপণনের উদ্দেশ্য গুলোকে অর্জনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সুতরাং বিপণন প্রসার পরিকল্পনা-
- কোম্পানির প্রসার সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী একটি কর্মপন্থা;
- কোম্পানির সামগ্রিক বিপণন পরিকল্পনার একটি উপাদান;
- সার্বিক প্রসার কার্যক্রমের রূপরেখা প্রণয়নে সাহায্য করে;
- প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির যোগাযোগ প্রচেষ্টার সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে; এবং
- পরিকল্পিত উপায়ে প্রসার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজতর করে।
বিপণন প্রসার পরিকল্পনার প্রক্রিয়া (Marketing Promotion Planning Process):
প্রসার পরিকল্পনা বলতে কোম্পানির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পরিপূর্ণভাবে অর্জনের উদ্দেশ্যে এর সার্বিক প্রসার কার্যক্রম ফলপ্রসূভাবে পরিচালনার জন্য কখন, কোথায়, কার দ্বারা, কীভাবে, কি কাজ সম্পাদন করা হবে তার পূর্বনির্ধারিত কর্মপন্থা প্রণয়নকেই বুঝায়। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ফলপ্রসূ প্রসার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রসার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তাই বিপণন ব্যবস্থাপককে ধাপে ধাপে নানাবিধ কর্ম সম্পাদন করতে হয়। নিম্নের চিত্রের মাধ্যমে বিপণন প্রসার পরিকল্পনার নানাবিধ পদক্ষেপগুলোকে উপস্থাপন করা হলো-

১. প্রসারের সুযোগ নির্ধারণ (Determine a Promotional Opportunity):
প্রসারের সুযোগ বলতে যেসব অনুকূল পরিস্থিতি প্রসার কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও লাভজনকভাবে সম্পাদন করতে প্রতিষ্ঠান বা বিপণনকারীকে সহায়তা করে থাকে তাকে বোঝায়। যেসব অবস্থা প্রসার কর্মকাণ্ড সম্পাদনের অনুকূল সুযোগ তৈরি করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- চাহিদার অনুকূল গতিধারা;
- শক্তিশালী পণ্য পৃথকীকরণ;
- v পণ্যের অন্তর্নিহিত গুণাবলি;
- আবেগপূর্ণ ক্রয় প্রেষণার অস্তিত্ব; এবং
- v পর্যাপ্ত তহবিল।
বিপণন ব্যবস্থাপককে উপরের সুযোগ গুলোকে খুঁজে পাওয়ার জন্য নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোকে বিবেচনা করতে হয়। যেমন-
- যোগাযোগের মাধ্যমিক উপাদান যার মধ্যে রয়েছে পণ্য, মূল্য এবং বন্টনপ্রণালী;
- সামষ্টিক পরিবেশ যার মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রবণতা, অর্থনৈতিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত পরিবেশ; এবং
- ক্রেতা ও তার ইচ্ছা এবং চাহিদা।
২. প্রসারের উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Determine Promotional Objectives):
বিপণন পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে একজন ব্যবস্থাপককে প্রসারের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয়। বেশিরভাগ প্রসারমূলক উদ্দেশ্যগুলো কর্পোরেট বিপণনের উদ্দেশ্য বা নির্দিষ্ট বিপণন সমস্যা গুলো থেকে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোম্পানির বাইরের উপাদান বা শক্তিগুলোও প্রসারমূলক উদ্দেশ্যগুলোকে প্রভাবিত করে। সামগ্রিকভাবে বেশিরভাগ প্রসারের উদ্দেশ্যগুলোকে পাঁচটি সাধারণ শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন-
- সচেতনতা তৈরি করা ;
- বোঝাপড়া তৈরি করা ;
- দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তৈরি করা;
- আচরণে পরিবর্তন সৃষ্টি করা;
- এবং ক্রেতা আগ্রহের শক্তিবৃদ্ধি করা ।
৩. প্রসার কর্মকান্ড সংগঠিতকরণ (Organize for Promotion ):
প্রসারের উদ্দেশ্য নির্ধারণ হয়ে গেলে একজন ব্যবস্থাপককে প্রসার কার্যক্রমের একটি সাংগঠনিক কাঠামো স্থির করতে হয়। কোম্পানিটি বাজারে একেবারেই নতুন না হলে বা প্রসারের ব্যবহার কোম্পানিতে নতুন না হলে, প্রসার সম্পাদনের একটি সাংগঠনিক কাঠামো ইতিমধ্যেই কোম্পানিতে রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তা সত্ত্বেও, প্রতিবার প্রসারমূলক উদ্দেশ্যগুলোর বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন বা সংশোধিত কাঠামো তৈরি করা হয় অথবা বিদ্যমান পরিকাঠামো এই উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারবে কিনা তা যাচাই করে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠানের যদি পর্যাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবল ও আর্থিক সক্ষমতা থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংগঠনকেই সক্ষম বলে মনে করা হয়। অন্যথায়, প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোন পেশাদার সংস্থার সাহায্যে প্রসার কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। তবে প্রসারমূলক পরিকল্পনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সাংগঠনিক সমন্বয় অব্যাহত রাখতে হয়।
৪. সঠিক অডিয়্যান্স নির্বাচন (Select Appropriate Audience):
উপযুক্ত শ্রোতা বা অডিয়্যান্স নির্বাচন নিঃসন্দেহে প্রসার কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সামগ্রিক বিপণন কার্যক্রমটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয় যাতে করে কোম্পানির প্রচারমূলক বার্তাগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সহজেই পৌঁছে যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্যস্থিত বাজার এবং লক্ষ্যস্থিত অডিয়্যান্সের মধ্যকার সূক্ষ্ণ পার্থক্যকে অনুধাবন করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, শিশুদের খেলনার অভীষ্ট বাজার মূলত শিশু।
তবে অভীষ্ট অডিয়্যান্সের বা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে শিশু, তার পিতামাতা, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যারা পণ্যের নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, বা শিশুদের মঙ্গল নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোক্তা গোষ্টী ইত্যাদি থাকতে পারে। তাই প্রসার ব্যবস্থাপকের জন্য উপযুক্ত অডিয়্যান্স নির্বাচন করার সময় পণ্যের সাথে তার পরিচিতি, কে এটি ব্যবহার করে, কিভাবে এটি ব্যবহার করা হয়, এবং কারা এটির ক্রয়কে প্রভাবিত করতে পারে ইত্যাদি ব্যাপারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৫. বার্তা নির্বাচন (Select a Message):
অভীষ্ট অডিয়্যান্স নির্বাচনের পর তাদের জন্য যথোপযুক্ত বার্তা নির্বাচন করতে হবে। কেননা প্রসারের সকল বার্তা সকল ধরণের অডিয়্যান্সের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে বা সকল অডিয়্যান্সকে সমানভাবে আকর্ষণ নাও করতে পারে। তাই নির্বাচিত অডিয়্যান্সদের ঠিক কী বলতে হবে তা নির্ধারণ করা প্রসার পরিকল্পনার একটি কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে মূল বিষয় হল যে বার্তাটি অভীষ্ট ক্রেতা বা ভোক্তাদেরকে জানানো হবে তা যেন অভীষ্ট অডিয়্যান্সদের গুরুত্বপূর্ণ অভাব, প্রয়োজন এবং চাওয়া গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যথোপযুক্ত বার্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাই বার্তার বিষয়বস্তু, বার্তার কাঠামো, বা বার্তার ধরন ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিতে হয়।
৬. প্রসার মিশ্রণ নির্ধারণ (Select the Promotional Mix):
বিপণন প্রসার মিশ্রণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ, ব্যক্তিক বিক্রয়, বিক্রয় প্রসার, এবং প্রত্যক্ষ বিপণন সরঞ্জামগুলোর সুনির্দিষ্ট সংমিশ্রণ, যার মাধ্যমে কোম্পানি ক্রেতা মূল্য বা ভ্যালু ক্রেতাকে বোঝানোর জন্য এবং ক্রেতা সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যবহার করে থাকে। তবে সবচেয়ে কার্যকর প্রসার মিশ্রণ নির্ধারণ করা বিপণন ব্যবস্থাপকের জন্য খুবই কঠিন।
বিপণন কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিক বিক্রয়, বা অন্য কোন প্রচারমূলক সরঞ্জাম ঠিক কতটা সাহায্য করবে তা ব্যবস্থাপক সঠিকভাবে জানেন না। তাছাড়া প্রসার মিশ্রণের প্রতিটি উপাদানের নিজস্ব শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তদুপরি বিচক্ষণ বিপণন ব্যবস্থাপকগণ প্রসারের হাতিয়ারগুলোর এই অন্তর্নিহিত শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা গুলোকে কোম্পানির ক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি, এবং অন্যান্য বিপণন উপাদানের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এমনভাবে বৃদ্ধি বা হ্রাস করেন যাতে করে সব ধরণের ক্রেতারই মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়।
৭. বাজেট নির্ধারণ (Determine a Budget):
বিপণন প্রসার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য কী পরিমান অর্থের প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করাকেই প্রসার বাজেট বলে। বিপণন প্রসারমূলক প্রচেষ্টা খুবই ব্যয়সাধ্য এবং প্রতিদিনই তা আরও বেশি ব্যয়বহুল হচ্ছে। বাজেট নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরণের কৌশল বা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বাজেট নির্ধারণ প্রায়শই প্রসার পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার সূচনা বিন্দু হিসেবে কাজ করে এবং বাকি সবকিছু এই নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট দ্বারাই নির্দেশিত হয়। বাজেট পূর্বনির্ধারিত থাকুক বা না থাকুক, এই পর্যায়ের প্রধান কাজ হলো প্রতিটি প্রসার উপাদানের জন্য ব্যয় করার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে ফেলা।
যদিওবা চূড়ান্ত খরচ প্রায়শই কোম্পানির বরাদ্দকৃত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি হয়, তখন খরচ বা ব্যয় সংকোচন করা হয়, লক্ষ্যের সাথে আপস করা হয়, কিংবা প্রয়োজনে উদ্দেশ্য পরিবর্তন করা হয়। বাজেট নির্ধারণের জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিক্রয়ের শতাংশ পদ্ধতি, প্রতিযোগিতামূলক সমতা পদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও কার্যভিত্তিক পদ্ধতি, আর্থিক সামর্থ্য পদ্ধতি ইত্যাদি ।
৮. প্রসার কৌশল বাস্তবায়ন (Implement a Strategy):
প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেয়ে গেলে বিপণন ব্যবস্থাপককে এবার প্রসার কৌশল বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। কোন প্রসারমূলক কৌশলের সাফল্য মূলত এটি কতটা ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয় তার উপর নির্ভর করে। অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কার্যকর বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারেন। প্রসার কৌশল বাস্তবায়নের কাজটি তিনটি পৃথক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে ।
- প্রথমতঃ প্রসার ব্যবস্থাপক এবং তার সহযোগীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট মাধ্যম, তারিখ, সময়, আকার, প্রতিভা, ফটোগ্রাফার, শিল্পী এবং উৎপাদন সময়সূচী সহ পরিকল্পনার সমস্ত উপাদান সম্পর্কে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
- দ্বিতীয়তঃ প্রসার ব্যবস্থাপককে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হতে পারে অর্থাৎ বাস্তবায়নযোগ্য এবং প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট লোক রয়েছে।
- তৃতীয়তঃ প্রসার ব্যবস্থাপককে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে প্রসার সংশ্লিষ্ট সমস্ত সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
৯. ফলাফল পরিমাপ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ (Measure Results and Taking Corrective Actions):
বিপণন প্রসার পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে এসে প্রসার ব্যবস্থাপককে প্রসার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর তা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে, তা পরিমাপ করে দেখতে হবে। প্রসার ব্যবস্থাপককে অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে যে প্রসার প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য গুলোকে অর্জন করতে পেরেছে কি না। ফলাফল পরিমাপের এই কাজটি প্রায়শই বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে পড়ে, কেননা এর সদস্যদের পরিমাপ কৌশল গুলো যাচাই করার বিশেষায়িত দক্ষতা রয়েছে। প্রসার ফলাফল পরিমাপ করার জন্য প্রসার ব্যবস্থাপককে তিনটি কাজ অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে।
- প্রথমতঃ প্রসারমূলক কার্যকারিতা পরিমাপের জন্য মানদন্ড স্থাপন করতে হবে।
- দ্বিতীয়তঃ প্রকৃত প্রসারমূলক কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ করতে হবে, অর্থাৎ প্রসারের প্রকৃত কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করতে হবে।
- তৃতীয়তঃ প্রসারমূলক দক্ষতা পরিমাপের মানদন্ড গুলোর সাথে প্রসারের প্রকৃত কার্যসম্পাদন তুলনা করতে হবে।
প্রসারের কৌশলটি একবার মূল্যায়ন করা হয়ে গেলে, প্রাপ্ত তথ্য মোট বিপণন পরিকল্পনা মূল্যায়নের অংশ হয়ে যায়। বিপণন ব্যবস্থাপক তখন যেকোন বিচ্যুতি বা ঘাটতিকে খুঁজে বের করতে পারেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিটি বিচ্যুতির জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। এভাবেই ধাপে ধাপে বিপণন প্রসার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। সফল বিপণন ব্যবস্থাপকগণ একটি দক্ষ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং কোম্পানির সার্বিক বিপণন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিপণন প্রসার পরিকল্পনাকে কাজে লাগান ।

বিপণন প্রসার পরিকল্পনা পাঠের সারসংক্ষেপ:
প্রসার পরিকল্পনার মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বাজারজাত করার জন্য প্রচারণা চালানোর কার্যকর পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। পণ্যের চাহিদা তৈরি এবং কোম্পানির নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে একটি পণ্য বা সেবার প্রসারের জন্য নানারকম বিপণন সরঞ্জাম, কৌশল, এবং সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রসার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তাই বিপণন ব্যবস্থাপককে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয়। যেমন- একজন বিপণন ব্যবস্থাপককে সর্বপ্রথম প্রসারের সুযোগ নির্ধারণ করতে হয়। এরপর তাকে প্রসারের উদ্দেশ্য নির্ধারন করতে হয়। প্রসারের উদ্দেশ্য নির্ধারণ হয়ে গেলে একজন ব্যবস্থাপককে প্রসার কার্যক্রমের একটি সাংগঠনিক কাঠামো স্থির করতে হয়।
পরবর্তীতে তাকে প্রসার কার্যক্রমের জন্য অভীষ্ট শ্রোতা বা অডিয়্যান্স নির্বাচন করতে হয়। অভীষ্ট অডিয়্যান্স নির্বাচনের পর তাদের জন্য যথোপযুক্ত বার্তা নির্বাচন করতে হয় কেননা প্রসারের সকল বার্তা সকল ধরণের অডিয়্যান্সের জন্য উপযুক্ত নয়। এই পর্যায়ে তাই বিপণন কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিক বিক্রয়, বা অন্য কোন প্রচারমূলক সরঞ্জাম ঠিক কতটা সাহায্য করবে বিপণন ব্যবস্থাপককে তা নির্ধারণ করতে হয়। বিপণন ব্যবস্থাপক এরপর বিক্রয়ের শতাংশ পদ্ধতি, প্রতিযোগিতামূলক সমতা পদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও কার্যভিত্তিক পদ্ধতি, বা আর্থিক সামর্থ্য পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রসার বাজেট নির্ধরণ করেন।
প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেয়ে গেলে বিপণন ব্যবস্থাপককে এবার প্রসার কৌশল বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। বিপণন প্রসার পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে এসে প্রসার ব্যবস্থাপককে প্রসার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর তা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য গুলোকে অর্জন করতে পেরেছে কি না ফলাফল পরিমাপের মাধ্যমে তা যাচাই করতে হয় এবং প্রয়োজনে প্রসার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয় ।

১ thought on “বিপণন প্রসার পরিকল্পনা”