নতুন প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ওএসবিবিএ ১২০৫ বিপণন নীতিমালা” এর “ব্যক্তিক বিক্রয় এবং প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণন” ইউনিট ১১ এর অন্তর্ভুক্ত।
নতুন প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন
প্রত্যক্ষ বিপণনের ধরনসমূহ
Types of Direct Marketing
বিপণনের হাতয়িারসমূহের সঠিক মিশ্রণ এবং সমন্বয়ই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জনের একমাত্র উপায় হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের কারণে ক্রেতারা যেকোনো প্রান্ত থেকে বিভিন্ন স্থানে বিপণন প্রয়াস এবং পণ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন, মতামত সহজেই সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের বিভিন্ন উপাদান সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বাধিক সফলতা অর্জনের জন্য পরিচালিত করতে হবে। নিচে চিত্র ১২.৩ এ প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরন তুলে ধরা হলো।

ক) প্রথাগত প্রত্যক্ষ বিপণন (Conventional Direct Marketing):
১) মুখোমুখি বা সরাসরি বিক্রয় (Face to Face or Direct Sales) : প্রত্যক্ষ বিপণনের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতি হলো সরাসরি বিক্রয়। এক্ষেত্রে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট উপস্থিত হয়ে প্রদর্শন ও ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য ও সেবাসামগ্রী বিক্রয়ের প্রচেষ্টাকে মুখোমুখি বিক্রয় বলা হয়। এ ধরনের বিক্রয়কে দ্বারে দ্বারে বা ডোর টু ডোর বিক্রয়ও বলা হয়। সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যেমন: সবজি, মাছ, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, খেলনা ইত্যাদি এই পদ্ধতিতে বিক্রি করতে দেখা যায় ।
২) সরাসরি ডাক যোগাযোগ (Direct-mail Marketing) : নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডাকযোগে পণ্য অফার, ঘোষণা বিজ্ঞাপন, নমুনা পণ্য বা সতর্কতামূলক তথ্য ইত্যাদি প্রেরণকে সরাসরি ডাক বিপণন বলা হয়। প্রত্যক্ষ ডাক বিপণনে একক ক্রেতা যোগাযোগ ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অফার সফলতার সাথে বাস্তাবায়ন করা সম্ভব হয়। কার্ড, চিঠি, ফোল্ডার, বিজ্ঞাপন ছাপানো কাগজ, ফ্যাক্স মেইল, ই-মেইল ও ভয়েস মেইল এবং প্রত্যক্ষ ডাক বিপণনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ইয়াহু (Yahoo), জি-মেইল (G-mail) ইত্যাদি।
৩) ক্যাটালগ মার্কেটিং (Catalog Marketing): বিপণনকারী কর্তৃক সরবরাহকৃত মুদ্রিত, ভিডিও অথবা ডিজিটাল ক্যাটালগ দেখে ক্রেতারা নির্দিষ্ট পণ্য নির্বাচনের মাধ্যমে উল্লেখিত মাধ্যমে অফার প্রদান করাকে ক্যাটালগ মার্কেটিং বলা হয়। ক্যাটালগ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতারা প্রকৃত পণ্যের ধরন অনুযায়ী পছন্দমতো পণ্য সহজেই নির্বাচন করতে পারে। ডিজিটাল ক্যাটালগ ব্যবহারে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের স্থান সংক্রান্ত, বিক্রয়কর্মী সংক্রান্ত, পণ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত ব্যয় সীমিত পর্যায়ে নেমে আসে। একই সাথে পণ্য সমাহার ব্যবস্থাপনায়ও কোনো প্রকার ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় না।
ডিজিটাল ক্যাটালগ মুদ্রণ এবং ডাক প্রেরণ ব্যয় হ্রাস করে এবং বিপণনকারীকে যেকোনো সময় নতুন পণ্য বৈশিষ্ট্য সংযোজন, মূল্য পরিবর্তন, পণ্যের উপস্থাপনের সুবিধ প্রদান করে সর্বোচ্চ ভোক্তা সন্তুটি ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনে সহায়তা করে থাকে। যেমন: চালডাল.কম (Chaldal.com) ক্যাটালগের মাধ্যমে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
৪) প্রত্যক্ষ সাড়া টেলিভিশন মার্কেটিং (Direcct Response Television Marketing): টেলিভিশনের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা প্রদর্শন এবং পণ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিকট তুলে ধরে পণ্য বিক্রয়ের প্রচেষ্টাকে প্রত্যক্ষ সাড়া টেলিভিশন মার্কেটিং বলে। প্রত্যক্ষ সাড়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোক্তাদের নিকট পণ্য বিবরণ বা পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রয় প্ররোচনা সৃষ্টি করা হয় এবং ক্রয় অর্ডার প্রদানের জন্য টোল ফ্রি ফোনে নম্বর বা অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের বিজ্ঞাপনের স্থায়িত্ব ৩০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি তথ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন হিসেবেও পরিচিত।
টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাঝে সরাসরি বিপণনকারীর সাথে যোগাযোগ করে ক্রেতা পণ্য অর্ডার প্রদান করতে পারে। ইন্টারনেটযুক্ত একটি স্মার্ট টিভি, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রপাতি এ ধরনের পারস্পরিক ক্রিয়াশীলতার গতি আরো ত্বরান্তিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, স্যামসাং স্মার্ট টিভি (Smart tv)। বর্তমানে প্রত্যক্ষ সাড়া টেলিভিশন বিজ্ঞাপন টেলিভিশন মাধ্যম ছাড়াও মোবাইল, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইটগুলোতেও প্রসারমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫) কিয়স্ক বিপণন (Kiosk Marketing) : কিয়স্ক হলো একধরনের মেশিন, যার মাধ্যমে বিপণনকারীর পণ্য সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে ক্রয়ের অর্ডার গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য সরবরাহ করা হয়। কিয়স্ক মূলত ভেন্ডিং মেশিনের (Vending Machine) মতো কিন্তু বর্তমান উন্নত প্রযুক্তি এবং অনলাইন ব্যবস্থা এর সেবা অধিকতর সহজ ও সস্তায় পরিণত করেছে। বিপণনকারী বিভিন্ন স্থানে যেমন, শপিংমল রেস্টুরেন্ট, বিমানবন্দর, পার্ক, মেলা, যাত্রীছাউনি ইত্যাদি স্থানে কিয়স্ক স্থাপন করে ক্রেতা আকর্ষণ সৃষ্টি এবং ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে থাকে ।
৬) অনলাইন মার্কেটিং (Online): অনলাইন বিপণন বা মার্কেটিং বলতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট, অনলাইন বিজ্ঞাপন এবং প্রসার, ই-মেইল মার্কেটিং, অনলাইন ভিডিও ও বিভিন্ন ব্লগের ব্যবহারকে বোঝায়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোবাইল মার্কেটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আওতাভুক্ত।
খ) ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপণন (Digital and Social Communication Marketing):
১) ওয়েবসাইটস এবং ব্র্যান্ড ওয়েব কমিউনিটি ( Websites and Brand Web Community): অনলাইন মর্কেটিংয়ের প্রথম ধাপ হলো প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট সৃষ্টি করা। মার্কেটিং ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় পণ্য বিক্রয় বা অন্যান্য প্রচারমূলক কর্মসূচি দ্বারা ভোক্তাদের পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করার নিমিত্তে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পণ্য এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ ক্রেতা আকর্ষণ সৃষ্টির সক্ষমতা অনুযায়ী সাজানো হয়।
যেমন: মীনা বাজার (Meena Bazaar) ওয়েবসাইট এমনভাবে সাজানো যে একজন ক্রেতা ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ক্রমানুসারে পণ্য নমুনা প্রদর্শন এবং ক্রয় কার্যাবলির দিকে ধাবিত হবে। ব্র্যান্ড কমিউনিটি ওয়েবসাইটগুলো ভোক্তা নিয়োজিতকরণ এবং বৃহৎ ভোক্তা কমিউনিটি তৈরির উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ড সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক ব্লগ, কর্মসূচি এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য যোগ করে ভোক্তাদের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ ধরনের ওয়েবসাইটে ক্রেতারা তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ, মন্তব্য তুলে ধরে ব্র্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ততা প্রকাশ করে থাকে। ওয়েবসাইট তৈরির পর বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিভিন্ন মাধ্যমে ওয়েবসাইটের প্রসার করে থাকে এবং ওয়েবসাইটের সহজ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে মনোযোগী হয়।
২) অনলাইন বিজ্ঞাপন (Online Advertising): গ্রাহকরা ওয়েবসাইট অনুপ্রবেশের সময় সাধারণত যে সমস্ত বিজ্ঞাপন দেখে থাকে তাদেরকে অনলাইন বিজ্ঞাপন বলা হয়। যেমন: ব্যানার অ্যাডস (Banner Ads), পপ আপ উনডোজ (Pop-up windows), স্টিকারস (Stickers) বা স্ক্রিনের (Screen) এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ক্রিয়াশীল এবং রোড ব্লগস বা পুরো স্ক্রিন জোড়া বিজ্ঞাপন, যা না দেখে অন্য স্ক্রিনে যাওয়া যায় না। যেমন: কোনো ওয়েবসাইটে ঢোকামাত্র এক সেকেন্ডের কমার্শিয়াল বা প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের অনলাইন কপি দেখতে পাওয়া। অনলাইন বিজ্ঞাপন মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
i. ডিসপ্লে অ্যাড বা প্রদর্শন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন। যেমন: ভিডিও ক্লিপ।
ii. অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বা সার্চ রিলেটেড অ্যাড, যা লেখা বা ছবিভিত্তিক এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের লিংক বা ঠিকানা সংযুক্তি হিসেবে দেখা যায় ।

৩) ই-মেইল মার্কেটিং (E-Mail Marketing) : ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতার ই-মেইলে পণ্য অফার এবং ক্রয় প্ররোচনা সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহ প্রেরণকে ই-মেইল মার্কেটিং বলা হয়। Philip kotler and Gary Armstrang- এর মতে, “Email marketing is sending highly, targated, highgy personalized, relationship building messege via email.”
৪) অনলাইন ভিডিও (Online Video): এ ধরনের ভিডিওর মাধ্যমে পণ্যের ব্যবহার সংবলিত নির্দেশনা, ব্র্যান্ড প্রচার, জনসংযোগমূলক উপাদান, ব্র্যান্ড সম্পর্কিত বিনোদন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বিপণনকারী এক্ষেত্রে শেয়ারকৃত ভিডিও ভাইরাল বা ছড়িয়ে পড়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। ভাইরাল মার্কেটিং (Viral Marketing) বা ভাইরাল বিপণন হলো মুখের কথার প্রভাব, যা ওয়ার্ড অব মাউথ ইনফ্লুয়েন্সের ডিজিটাল রূপ, যেকোনো আকর্ষণীয় ভিডিও, বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য উপাদান ভোক্তারা নিজে আগ্রহী হয়ে অনুসন্ধান করে এবং অন্যান্য ক্রেতার সাথে শেয়ার করে ভোক্তাদের শেয়ারকৃত উপাদান সহজেই বিপণন সফলতায় রূপান্তরিত হয়।
৫) ব্লগ এবং অন্যান্য অনলাইন সংগঠন (Blogs and Other Online Groups): ব্লগ হলো একটি অনলাইন সংগঠন বা সংগঠিত স্থান যোখানে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা গ্রুপ তাদের মতামত এবং বিষয় সম্পর্কিত বিচার- বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। বিপণনকারীর বর্তমানে বিভিন্ন ব্লগ লক্ষ্য করে প্রসারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে ।
৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিপণন (Social Communication Media Marketing): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কিছু সামাজিক নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে বোঝায় যেখানে মানুষ একত্র হয়ে পরিচিত হওয়া, মতামত প্রদান, ছবি ভিডিও এবং অন্যান্য উপাদান একে অন্যের সাথে শেয়ার করে । যেমন: ফেসবুক (Facebook), টুইটার (Tweeter), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), ইউটিউব (Youtube), গুগুল + (Google+), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat), পিনটারেস্ট (Pinterest), ইত্যাদি। যেহেতু অধিকতর ভোক্তা সমাবেশ বিপণনকারীর জন্য লক্ষ্যায়ণ এবং যোগাযোগ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করে থাকে। প্রথাগত গণমাধ্যম এবং অন্যান্য সম্প্রচার মাধ্যম থেকে স্বল্প খরচে এবং কম সময়ে এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে এই সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলো অধিক কার্যকর।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় লক্ষ্যায়িত ক্রেতারদের শুধু এই সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে পণ্য সংক্রান্ত অফার ও প্রসার প্রেরণ সম্ভবও নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি, বিশ্বায়ন, উন্নত নেটওয়ার্ক সিস্টেমের কারণে মানুষের বিনোদন থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সবই বর্তমানে এসব সামাজিক মাধ্যম দ্বারা সম্পাদন করে থাকে। বিপণনকারী এবং সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত এবং কার্যকর বিপণন পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াসে কাজ করে। এক্ষেত্রে বিপণনকারীরা সামাজিক মাধ্যমগুলোকে দুইভাবে ব্যবহার করে থাকে। বিদ্যমান মাধ্যম ব্যবহার অথবা নিজস্ব যোগাযোগ মাধ্যম তৈরি।
যেমন: আড়ং নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মেসেঞ্জারের সাথে যুক্ত হয়ে Aarong online shopping.Com তৈরি করেছে, যেখানে ব্যবহারকারী হিসেবে সংযুক্ত হয়ে একজন ক্রেতা পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের ন্যায় সকল সুযোগ- সুবিধা ভোগ করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একজন বিপণনকারী সর্বশ্রেণির ক্রেতা সম্পর্কিত তথ্য, ক্রেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ব্যবহৃত পণ্য, বন্ধু-বান্ধব, সংগঠন সম্পৃক্ততা এবং সার্বক্ষণিক তথ্য সহজেই বিশ্লেষণ করে একক ক্রেতাভিত্তিক পণ্য, ভ্যালু মিশ্রণ এবং উপযুক্ত প্রসারমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে। এ ধরনের প্রভাব এবং সুবিধার কারণে বর্তমান যুগে বিপণনকারীরা তাদের ব্র্যান্ড ও প্রসারমূলক কৌশলসমূহকে সমন্বিতভাবে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উপস্থাপন করে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের নিত্যনতুন প্রচেষ্টা চালাতে থাকে।
৭) মোবাইল মার্কেটিং (Mobile Marketing): প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের আরেকটি জনপ্রিয় উপাদান হলো মোবাইল মার্কেটিং। মোবাইল মার্কেটিং বলতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মোবাইল ফোনে নির্বাচিত বার্তা, প্রসারমূলক তথ্য এবং অন্যান্য বিপণন সংক্রান্ত উপাদান প্রেরণের মাধ্যমে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়াসকে বোঝায়। মোবাইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিপণনকারী ভোক্তাদের সাথে যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় সংযুক্ত থাকা ও সম্পর্ক স্থাপন প্রক্রিয়া চালু রাখতে সক্ষম হয়। কারণ প্রায় প্রত্যেক ভোক্তা বা ক্রেতার বিভিন্ন ধরনের মোবাইল যন্ত্রাংশ,
যেমন: স্মার্টফোন (Smartphone), ট্যাব (Tab), মোবাইল ফোন (MobilePhone), বা এ ধরনের ডিভাইস সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করে। ভোক্তা বা ক্রেতারা শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য ও তথ্য সংগ্রহ, নির্বাচন, তুলনা, প্রতিযোগী পণ্যের গুণাগুণ বিশ্লেষণ, অর্ডার প্রদান, মূল্য পরিশোধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বর্তমান ডিজিটাল যুগের বিপণনকারীরা মোবাইল মার্কেটিং ব্যবহার করে ভোক্তাদের দ্রুত ক্রয় সিদ্ধান্ত, ক্রয় প্ররোচনা সৃষ্টি, সহজ ক্রয় সুবিধা, উন্নত ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতা এবং সহজ প্রসার সম্পৃক্ততা সৃষ্টির মতো বৈশিষ্ট্য প্রতিনিয়তই চর্চা করে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হাতিয়ারসমূহের সফলতা এবং কার্যকারিতার সাথে কিছু অসুবিধাও বিদ্যমান। যেমন: প্রতারণা, গোপনীয়তার অভাব, হ্যাকিং, তথ্য পাচার ইত্যাদি। একজন ক্রেতার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পিন নম্বর ফাঁস, নিম্নমানের পণ্য ডেলিভারি, অতিরঞ্জিত তথ্য শেয়ার, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি সমস্যা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থায় স্বল্প ব্যয় এবং আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার সাথে বৃহৎ ঝুঁকি ও ভোক্তা অনাস্থাও সম্পৃক্ত। প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপণনকারীদের অধিকতর ভোক্তা সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ক্রেতা আনুগত্য, উন্নত বিপণন পরিবেশ, সর্বোচ্চ ভ্যালু সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি করা একান্ত আবশ্যক।
মোবাইলে কৃষি সেবা
ফসলি, এসিআই (ACI)-এর একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন যা বাংলাদেশের প্রধান ফসলগুলোর সম্পর্কিত সকল তথ্য সম্বলিত একটি ‘ওয়ান স্টপ সলিউশন’। ফসলি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, কৃষকরা ফসলের স্থায়িত্ব, কৃষি অনুশীলন, কীটনাশক এবং রোগের সতর্কতা, কৃষির কাঁচামালের বিশদ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজার সম্পর্কিত তথ্য এবং জরুরি ও প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি সম্পর্কিত পরামর্শমূলক সেবা পেয়ে থাকে। দেশের ১২ টি জেলা জুড়ে প্রায় ১,০৫,০০০ কৃষক নিয়মিত ফসলি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং পরামর্শমূলক সেবা পাচ্ছেন।
৬ষ্ঠ ডিজিটাল শীর্ষ সম্মেলনে ফসলি মোবাইলের সেরা ব্যবহারের ডিজিটাল বিপণন পুরষ্কার ২০১৯ বিভাগে স্বর্ণ পুরষ্কার জয় করে। ফসলির প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো যথাসময়ে কাস্টমাইজড অ্যাডভাইসরি সার্ভিস সরবরাহ করে কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী এবং সম্প্রসারণ এজেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অনলাইনে এই প্ল্যাটফর্মের প্রচারের কাজ শুরু করা হয়। অনলাইনে প্রচারের মূল কারণ ছিল লক্ষ্যয়িত দর্শকদের (Target Audience) কাছে পৌঁছানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ফসলির সুবিধা দেয়া এবং কৃষি সম্পর্কে শিক্ষিত করে সর্বাধিক সচেতন করা।
সর্বাধিক সম্ভাব্য লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছানো ও আগ্রহ তৈরির জন্য অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল ওভিসি (Online Video Commercial – OVC) আকারে বিষয়বস্তুকে তুলে ধরা হয়েছিল। ফসলি অ্যাপ্লিকেশন অনলাইনে প্রচারের ফলে ৭ মিলিয়ন ব্যক্তির কাছে ডিজিটালভাবে পৌঁছেছিল এবং অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল প্রথম ১৭ সপ্তাহে ১১ মিলিয়ন বার দেখেছিল।

সারসংক্ষেপ
প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের ধরনসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: প্রথাগত প্রত্যক্ষ বিপণন এবং নতুন প্ৰত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন। প্রথাগত প্রত্যক্ষ বিপণনের ধরনসমূহ হলো, যথা: সরাসরি বিক্রয়, সরাসরি বিপণন, ক্যাটালগ বিপণন, টেলিমার্কেটিং, প্রত্যক্ষ সাড়া প্রদান, টেলিভিশন মার্কেটিং এবং কিয়স্ক মার্কেটিং। অন্যদিকে নতুন প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের ধরনসমূহের মাঝে অনলাইন মার্কেটিং, ওয়েবসাইটস গঠন অনলাইন বিজ্ঞাপন, ই-মেইল, অনলাইন ভিডিও, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল মার্কেটিং উল্লেখযোগ্য।
