সরবরাহ প্রণালি এবং ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ওএসবিবিএ ১২০৫ বিপণন নীতিমালা” এর “বিপণন বা বণ্টন প্রণালি, খুচরা ব্যবসায়, পাইকারী ব্যবসায়” ইউনিট ৮ এর অন্তর্ভুক্ত।
সরবরাহ প্রণালি এবং ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক
সরবরাহ প্রণালি/সাপ্লাই চেইন
Supply Chain
প্রতিটি উৎপাদনকারী পণ্যদ্রব্য উৎপাদনে এবং বণ্টনের সিদ্ধান্ত মূলত বর্তমান এবং সম্ভাব্য ভোক্তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উৎপাদনকারীর নিজের পক্ষে পণ্যদ্রব্য ভোক্তাদের নিকট প্রত্যক্ষভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিভিন্ন মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা বিপণনকারী এবং ভোক্তার মধ্যকার সরবরাহ সুবিধা প্রদান করে। মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে পণ্য উৎপাদন বা ভোগ না করলেও উৎপাদনকারী এবং ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন এবং সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
পণ্যদ্রব্য অধিক হারে উৎপাদন এবং বণ্টনের জন্য বিপণনকারীকে শুধু ভোক্তার সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করলেই যথেষ্ট হয় না। সরবরাহ প্রণালি বা সাপ্লাই চেইনের অন্তর্ভুত কাঁচামাল সরবরাহকারী থেকে শুরু করে পুনঃ বিক্রয়কারী মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের সাথেও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ প্রণালি হলো কতগুলো পক্ষের সমষ্টি যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোক্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সুবিধাজনক স্থানে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করে।
Skinner বিপণন প্রণালি সম্পর্কে যে সংজ্ঞা প্রদান করেছে তা হলো, “A marketing channel (sometimes called a channel of distribution) is a group of interrelated individuals or organizations that direct the flow of products to consumers ” অর্থাৎ বিপণন প্রণালি (কখনো বণ্টন প্রণালি বলা হয়) হলো পারস্পরিক সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি, যারা ভোক্তাদের নিকট পণ্য পৌছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকে ।
Philip Kotler & Gary Armstrong বিপণন প্রণালিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে, “Marketing channel (or distribution channel)- a set of interdependent organizations involved in the process of making a product or service available for use or consumption by the consumer or business buyer.” বণ্টন প্রণালি হলো পরস্পর নির্ভরশীল সংগঠনসমূহের একটি দল, যারা ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য পণ্য বা সেবা ব্যবহার বা ভোগ উপযোগী করতে সাহায্য করে।
এককথায় সাপ্লাই চেইন হলো উৎপাদন অভিমুখী (Upstream) এবং ক্রেতা অভিমুখী (Downstream) প্রণালি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত। একটি সাপ্লাই চেইনের মাঝে সর্বদা পণ্যদ্রব্য, কাঁচামাল, তথ্য ও অর্থের আদান-প্রদান হতে থাকে। উৎপাদন অভিমুখী প্রণালি মূলত ওই সকল প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি যারা উৎপাদনকারীকে কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, যন্ত্র, তথ্য, অর্থ এবং অভিজ্ঞতা সরবরাহ করে উৎপাদন গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহয়তা করে।
অন্যদিকে ক্রেতা অভিমুখী সরবরাহ প্রণালি বলতে মূলত বিপণন প্রণালি অথবা সরবরাহ প্রণালির সমষ্টিকে বোঝায়, যারা পণ্যদ্রব্য ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে। ক্রেতা অভিমুখী প্রণালির অংশ হচ্ছে পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। সরবরাহ প্রণালি বা সাপ্লাই চেইনের সবচেয়ে উত্তম ব্যাখ্যা হলো এটা ভোক্তা চাহিদা নির্দিষ্টকরণ প্রণালি হিসেবে কাজ করে। সরবরাহ প্রণালির মাধ্যমে বিপণনকারী ভোক্তা চাহিদার ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যালু সৃষ্টি করতে পারে।
ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক
Value Delivery Network
সফল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে শুধু সাপ্লাই চেইন তৈরিই করে না বরং তারা নিয়মিতভাবে ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক সৃষ্টি এবং উত্তম ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকে। ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক হলো প্রতিষ্ঠান, কাঁচামাল সরবরাহকারী, পরিবেশক এবং ক্রেতাদের সমন্বিত গ্রুপ, যারা প্রত্যেকে অংশীদারির ভিত্তিতে সামগ্রিক নেটওয়ার্কের মুনাফা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে।
উদাহরণস্বরূপ পেপসির (Pepsi) কথা বলা যায়। পেপসি তার পণ্যদ্রব্যগুলোর সারি সরবরাহের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক সফলভাবে পরিচালনা করে। একই সাথে হাজার হাজার কাঁচামাল সরবরাহকারী, বোতল প্রস্তুতকারক, খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসমষ্টির চাহিদাকে সমন্বয় করে পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিপণন প্রণালির প্রকৃতি
Nature of Marketing Channel
উৎপাদনকারী প্রত্যক্ষভাবে পণ্যদ্রব্য ভোক্তার নিকট পৌছে দেওয়া অনেকাংশে ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। তাই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই পণ্যদ্রব্য ভোক্তার নিকট বণ্টনের জন্য মার্কেটিং চ্যানেল বা বিপণন প্রণালি তৈরি করে। মার্কেটিং চ্যনেল বা বিপণন প্রণালি বলতে বণ্টন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের সমষ্টিকে বোঝায়, যেখানে কিছু আত্মনির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের কাছে পণ্যদ্রব্য সঠিক সময়ে এবং সর্বোত্তম উপায়ে সরবরাহে সহযোগিতা করে। এই সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের মধ্যস্থ ব্যবসায়ী, যেমন এজেন্ট, পরিবেশক, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী থেকে চূড়ান্ত ভোক্তাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বিপণন প্রণালির গুরুত্ব
Importance of Marketing Channels
যদিও মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা বিপণনকারী পণ্য সরবরাহ এবং চাহিদা নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিন্তু মধ্যস্থ ব্যবসায়ী ব্যবহারের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠান তার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রণালির সদস্যদের ওপর অর্পণ করতে হয়। এ জন্যই সরবরাহ প্রণালি সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তই বিপণন কৌশল এবং কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে। পণ্যদ্রব্য এবং সেবা সরবরাহে প্রণালি সদস্যদের সহযোগিতা করে সর্বদা সময়গত, স্থানগত এবং স্বত্ত্বগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে। এছাড়া প্রণালি সদস্যরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে বিপণন পরিবেশে ভ্যালু সংযোজন করে। যথা:
১. তথ্য প্রদান (Information): মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা সর্বদা ভোক্তার চাহিদা এবং প্রতিযোগী পণ্য এবং বিপণন পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ তথের উৎস হিসেবে কাজ করে।
২. প্রসারে সহায়তা (Promotion): অনেক সময় মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিভিন্ন প্রসারমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে । কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরই প্রসারমূলক কর্মসূচির সফলতার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয় ।
৩. যোগাযোগ (Contact): নির্দিষ্ট পণ্যের ভোক্তা অনুসন্ধান এবং বিপণনকারীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
৪. চাহিদার সামঞ্জস্যতা পূরণ (Matching): মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা ভোক্তার চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বিভাজন, মোড়কীরণ ও পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।
৫. সমঝোতা (Negotiation): উৎপাদনকারী বা বিপণনকারীর সাথে ক্রেতা পণ্যের মালিকানা স্বত্ব ও মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা সমঝোতাকারী হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া প্রণালি সদস্য বা মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা সর্বদা পণ্য পরিবহন, বিভাজন, অর্থায়ন, ব্যয়ভার বহন এবং ঝুঁকি গ্রহণের মাধ্যমে মার্কেটিং চ্যানেল বা বিপণন প্রণালিতে ভ্যালু সংযোজন করে। বিপণনের সকল উপাদানের ওপর বিপণন প্রণালি সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে থাকে, যেমন: পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়কর্মীর সংখ্যা নির্ধারণ, বিজ্ঞাপনের ব্যাপকতা নিরূপণ ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট উন্নতমানের পণ্য তৈরি করেও পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার কারণে কার্যক্রম সম্পাদনে সমস্যায় পড়ে এবং ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়।
মুদি দোকানে ই-কমার্স
ইন্টারনেট সুবিধা ও স্মার্টফোন ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনে পণ্য ক্রয় করার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন ব্যবসায়ের বিক্রেতা পণ্য সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করছেন কিন্তু তারপরেও বেশিরভাগ সময়ই ক্রেতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে পণ্য পৌছে দিতে পারছেন না। কিন্তু অনলাইনে ক্রয়কৃত পণ্য বাসায় সরবরাহ (Home delivery) করার যৌক্তিক সমস্যার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। ডেলিগ্রাম এই সমস্যার সমাধান করে ক্রেতাদের বাড়িতে বা ক্রেতার নিকটস্ত মুদি দোকানে পণ্য সরবরাহ করে দিচ্ছে।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ডেলিগ্রামের বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু ২০১৯ সালে, যা অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে স্থানীয় দোকান বা মুদি দোকানের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসায়ের বন্টন প্রণালিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতা অনলাইনে ডেলিগ্রামের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা হোয়াটস্ অ্যাপ থেকে পছন্দসই পণ্যের ও সাপ্তাহিক মুদি অর্ডার করতে পারেন। আর তা সুনির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে বাসায় অথবা ক্রেতার নিকটস্থ মুদি দোকান যারা ডেলিগ্রামের এজেন্ট বা ‘ডিজি এজেন্টস’ তাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
আবার, ডেলিগ্রাম-এ তালিকাভূক্ত দোকানগুলোতে ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং পণ্য ক্যাটালগ রয়েছে, সেখান থেকেও ক্রেতা পণ্যের অর্ডার দিতে সক্ষম হবেন। ডিজি এজেন্টরা একইসাথে ডেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রচলিত / স্বাভাবিক দোকানের কার্যক্রম চালিয়ে ই-কমার্সের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রয় করতে পারে। ডেলিগ্রামে বর্তমানে সারা দেশে ৩০০ টি এজেন্ট রয়েছে যা পিক আপ এবং ড্রপ পয়েন্ট হিসাবে কাজ করে। ভবিষ্যতে এক হাজারে প্রসারিত করার পরিকল্পনা আছে যেন প্রতিটি স্টোরের আদর্শভাবে ৫০০ ফুট ব্যাসার্ধ থাকে। ডেলিগ্রাম ঢাকা, কুমিল্লা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে ও সবেমাত্র চট্টগ্রাম এবং সিলেটে কার্যক্রম শুরু করেছে।

সারসংক্ষেপ
সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ প্রণালি হলো কতগুলো পক্ষের সমষ্টি, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোক্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সুবিধাজনক স্থানে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করে। এরা নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে না বা পণ্য ভোগও করে না কিন্তু ভোক্তাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে স্থানগত, সময়গত, ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে নতুন | উপযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। একটি সাপ্লাই চেইনের মাঝে সর্বদা পণ্যদ্রব্য, কাঁচামাল, তথ্য ও অর্থের আদান-প্রদান হতে থাকে।
সফল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে শুধু সাপ্লাই চেইন তৈরিই করে না বরং তারা নিয়মিতভাবে ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক সৃষ্টি এবং উত্তম ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকে। ভ্যালু সরবরাহ নেটওয়ার্ক হলো প্রতিষ্ঠান, কাঁচামাল সরবরাহকারী, পরিবেশক এবং ক্রেতাদের সমন্বিত গ্রুপ, যারা প্রত্যেকে অংশীদারির ভিত্তিতে সামগ্রিক নেটওয়ার্কের মুনাফা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। এই সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের মধ্যস্থ ব্যবসায়ী, যেমন এজেন্ট, | পরিবেশক, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী থেকে চূড়ান্ত ভোক্তাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রণালি সদস্যরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে | বিপণন পরিবেশে ভ্যালু সংযোজন করে। যথা: তথ্য প্রদান, প্রসারে সহায়তা, যোগাযোগ, চাহিদার সামঞ্জস্যতা পূরণ, | সমঝোতা, পণ্য পরিবহন, বিভাজন, অর্থায়ন, ব্যয়ভার বহন, ঝুঁকি গ্রহণ ইত্যাদি।

