বিপণন প্রসার ও সমন্বিত বিপণন যোগাযোগব্যবস্থা আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ওএসবিবিএ ১২০৫ বিপণন নীতিমালা” এর “ভোক্তা ভ্যালু যোগাযোগ” ইউনিট ৯ এর অন্তর্ভুক্ত।
বিপণন প্রসার ও সমন্বিত বিপণন যোগাযোগব্যবস্থা
বিপণন যোগাযোগ বলতে কী বোঝায় ?
What is meant by Marketing Communication?
বিপণন মিশ্রণের সর্বশেষ ধাপ হলো বিপণন প্রসার অথবা বিপণন যোগাযোগ (Marketing promotion / Marketing communication)। বিপণনকারী বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গুণগতমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করে। যত ভালো ভ্যালু মিশ্রণের মাধ্যমেই পণ্য উৎপাদিত হোক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভোক্তা পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পণ্য হতে মুনাফা বা আয় হবে না। অতএব একটি পণ্য উৎপাদনের পর বিপণনকারীর প্রধান দায়িত্ব হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি ও আকর্ষণ অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ভোক্তাদের কাছে প্রেরণ করা এবং বিপণনের ব্যবস্থা করা।
বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রদান, ভোক্তা আকর্ষণ তৈরি ও বৃদ্ধি এবং দক্ষতার সাথে ভোক্তার নিকট সর্বোত্তম ভ্যালু সরবরাহে ব্যবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলির সমষ্টিকেই বিপণন প্রসার বা বিপণন যোগাযোগ বলে । বিপণন প্রসার বা বিপণন যোগাযোগই হলো বিপণনকারী এবং ভোক্তাদের মাঝে যোগসূত্র স্থাপনকারী । বিপণন প্রসারের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা বাজার চাহিদা তৈরি এবং ভোক্তা আকর্ষণ বৃদ্ধি করা ।
Philip Kotler & Gary Armstrong বিপণন যোগাযোগকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে, “Marketing Communications are the means by which firms attempts to inform, persuade, and remind consumers-directly or indirectly about the products and brands that they sell.” অর্থাৎ বিপণন যোগাযোগ হলো সেই সব উপায়, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তার বিক্রয় করা পণ্যও ব্র্যান্ড সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবহিত, প্ররোচিত ও স্মরণ করানোর প্রচেষ্টা নেয় ।
বিপণন প্রসার/যোগাযোগ মিশ্রণ
Marketing Promotion/Marketing communication Mix
বিপণন প্রসার/যোগাযোগ মিশ্রণে যেগাযোগ বলতে এক পক্ষ হতে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ, গ্রহণ এবং মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারী যেভাবে তথ্য উপস্থাপন করে ঠিক সেভাবেই তথ্য গ্রহণকারীর তথ্য গ্রহণ এবং মূল্যায়ন ও জড়িত। বিপণন প্রসার বা যোগাযোগের মূল কাজ হলো বিপণনকর্মী কর্তৃক ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত তথ্য ভোক্তাদের অবহিত করা, প্ররোচিত করা এবং বিপণনকারীর উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে ভোক্তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা।
বিপণনকারীর যোগাযোগের উদ্দেশ্য হিসেবে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি, বিক্রয় বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা মোকাবিলা, মুনাফা বৃদ্ধি, ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি, পণ্যের পরীক্ষামূলক ব্যবহার, ভোক্তা আকর্ষণ তৈরি, সুসম্পর্ক স্থাপন, প্ররোচনা ইত্যাদির যেকোনোটি হতে পারে। বিপণন প্রসার বা যোগাযোগের কাজ হলো এক্ষেত্রে বিপণনকারীর যোগাযোগের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভোক্তা প্রতিক্রিয়া তৈরি করা। যেমন: বিপণনকারীর যদি মূল্যছাড় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রেরণ করে বিক্রয় বৃদ্ধির চেষ্টা করে, তাহলে এখানে বিক্রয় প্রসার বা যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে বিক্রয় বৃদ্ধি করা যায় সেটাই মূল বিষয় হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমান যুগে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নতুন নতুন প্রতিযোগীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিপণনকারীকে বিপণন প্রসার সংক্রান্ত সমস্ত হাতিয়ারকে একত্র করে সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হয়। বিপণন প্রসার বা যোগাযোগ মিশ্রণ বলতে বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিক বিক্রয়, বিক্রয় প্রসার, জনসংযোগ, প্রত্যক্ষ বিপণন ইত্যাদি প্রসারমূলক হাতিয়ারের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তা ভ্যালু অবহিতকরণ, ভোক্তা সম্পৃক্ততা ও ভোক্তা সুসম্পর্ক গঠন এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিতকরণকে বোঝায়। বিপণন যোগাযোগ মিশ্রণের মূল হাতিয়ার মূলত পাঁচটি যা চিত্র নং ৯.১ এ দেখানো হলো ।

১. বিজ্ঞাপন (Advertising): বিজ্ঞাপন হলো বিপণন প্রসার/ যোগাযোগের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহৎ ভোক্তাসমষ্টিকে সহজেই পণ্য ভ্যালু সম্পর্কে অবহিত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় ভোক্তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। Philip kotler & Gary Armstrong -এর মতে, “Advertising is any paid from of nonpersonal presentation and communication of ideas, goods, or services by an identified sporsor.” অর্থাৎ বিজ্ঞাপন হলো কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে কোনো ধরনের পণ্য ও সেবার অব্যক্তিক উপস্থাপনা এবং বিপণন প্রসার।
প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধির সাথে ভোক্তার আকর্ষণ তৈরিতে বিজ্ঞাপনের ব্যবহারের ধরনেরও ব্যাপক পরিবর্তন বর্তমান যুগে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপন তৈরি এবং প্রচারের মাধ্যম হিসেবে নতুন নতুন কৌশল এবং পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শুধু টেলিভিশন, রেডিও ও মুদ্রণ মাধ্যমগুলোকে বিজ্ঞাপনের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে নতুন মাধ্যম, যেমন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল, ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে বর্তমান প্রচলিত মাধ্যমগুলো হলো-মুদ্রণ মাধ্যম (সংবাদপত্র), সম্প্রচার মাধ্যম (বেতার ও টেলিভিশন), নেটওয়ার্ক মাধ্যম (টেলিফোন, ক্যাবল, স্যাটেলাইট, ওয়্যারলেস) ইলেকট্রনিক মাধ্যম (সিডি রোম বা CD- ROM, ভিডিও ডিস্ক, ওয়েব পেজ) এবং প্রদর্শন মাধ্যম (বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, পোস্টার) ইত্যাদি।
২. বিক্রয় প্রসার (Sales Promotion): ভোক্তা বাজারে স্বল্প সময়ের জন্য পণ্য বা সেবার বিক্রয় বৃদ্ধির নিমিত্তে গৃহীত বিভিন্ন কার্যাবলিকে বিক্রয় প্রসার বলা হয়। Philip Kotler এবং Gary Aramstrong এর মতে, “Sales promotion is the short-term incentives to encourage the purchase or sales of a product or service.” অর্থাৎ বিক্রয় প্রসার হলো স্বল্পকালীন মেয়াদে পণ্য বা সেবার ক্রয় বা বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপনাসমূহ। বিক্রয় প্রসার কৌশলসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মূল্যছাড়, সৌজন্যমূলক পণ্য বিতারণ, নমুনা পণ্য প্রদান, কুপন, পণ্য প্রদর্শন ইত্যাদি। ব্যবসায়িক পণ্যের বিক্রয় প্রসারের মধ্যে প্রদর্শনী ছাড়, ব্যবসায়িক ছাড় বিক্রয়কর্মী প্রতিযোগিতা আয়োজন ইত্যাদি কৌশল ব্যবহৃত হয়।
৩. ব্যক্তিক বিক্রয় (Personal Selling ) : পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মুখোমুখি হয়ে পণ্য বা সেবা সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করে উক্ত পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্ররোচিত করা বা বিক্রয় বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টাকে ব্যক্তিক বিক্রয় বলা হয়। সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে ব্যক্তিক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অধ্যাপক Philip Kotler এবং Gary Aramstrong -এর মতে, “Personal selling is any form of personal presentation by the firms salesforce for the purpose of engaging customers, making sales and building customer relationship.”
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী বাহিনী দ্বারা ব্যক্তিগত উপস্থাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের নিয়োজিত করা, বিক্রয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতা সম্পর্ক অর্জনের প্রয়াসকেই ব্যক্তিক বিক্রয় বলা হয়। ভোগ্য পণ্যের তুলনায় ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রয়িকতা অধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে । প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা তৈরি করে সম্ভাব্য ক্রেতাকে পণ্যের নিয়মিত এবং অনুগত ক্রেতায় পরিণত করাই হলো ব্যক্তিক বিক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য। ব্যক্তিক বিক্রয় কৌশলসমূহের মাঝে পণ্য উপস্থাপন ও প্রদর্শনী বা Trade show এবং প্রণোদনামূলক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য হতিয়ারসমূহ ।
৪. জনসংযোগ এবং প্রচার (Public Relation and Publicing): জনসংযোগ বলতে মূলত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সঠিক এবং অনুকূল প্রচারণা অর্জনের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপকে বোঝায়। বিপণন প্রসারের এই পর্যায়ে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের নিকট প্রতিষ্ঠানের অনুকূল ভাবমূর্তি বা ইমেজ প্রতিষ্ঠা, সুসম্পর্ক স্থাপন এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত যেকোনো প্রতিকূল সংবাদ বা ঘটনাকে সঠিকভাব উপস্থাপন করা, প্রতিকূল ধারণাসমূহ দূর করা ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।
Philip Kotler এবং Gary Aramstrong-এর মতে, “Public relation is building good relation with the company’s various publics by obtaining favorable publicity, building up a good corporate image, and handling and heading off unfavorable rumors stories and events.” অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, অনুকূল প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি তৈরি এবং প্রতিকূল যেকোনো ধরনের গুজব, কল্পকাহিনি ও ঘটনার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিহত করার সামগ্রিক প্রয়াসকে জনসংযোগ বলা হয়। জনসংযোগের ক্ষেত্রে প্রচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এ ধরনের প্রচারের জন্য কোনো অর্থ প্রদান করা হয় না। প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত পরিচিতি এবং অনুকূল ভাবমূর্তি তৈরি হয়।
অন্যদিকে প্রচার সম্পর্কে Philip Kotler & Gary Armstrong-এর মতে, “Publicity is non-personal stimulation of demand for product, service or business unit by planting commercially significant news about it in a published media for obtaining favorable presentation of it upon radio, television or stage that is not paid for by the sponsor.” অর্থাৎ উদ্যোক্তা কর্তৃক অর্থ প্রদান ব্যতীত জনসাধারণের নিকট প্রকাশ পায় এমন কোনো মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তথ্য প্রকাশ বা রেডিও, টেলিভিশন অথবা মঞ্চে কোনো পণ্য, সেবা বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক চাহিদা সৃষ্টির চেষ্টা হলো প্রচার। সহজ অর্থে প্রচার হলো কোনো বিপণনকারীর কোনো প্রকার প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ছাড়াই পণ্য বা সেবা এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য ভোক্তা সাধারণকে অবহিত করার প্রক্রিয়া।
৫. প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন (Direct and Digital Marketing): বর্তমানে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ভোক্তাদের সাথে যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত এবং সহজ করে তুলছে। একটি প্রতিষ্ঠান খুব কম ব্যয়ে এবং অল্প সময়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয় প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে। কোনো প্রকার মধ্যস্থ ব্যবসায়ী ব্যতীত কোনো পণ্য বা সেবার সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিকট বিক্রয় এবং প্রসারমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকে প্রত্যক্ষ বিপণন বলে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিকট পৌছানোর জন্য ইন্টারনেট, মুঠোফোন, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহারের পদ্ধতিকে ডিজিটাল বিপণন বলা হয়। প্রথম দিকে বাজার চাহিদা বৃদ্ধি, বিক্রয় এবং প্রসারমূলক কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য গণবিজ্ঞাপনকেই একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে সাথে প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থা উৎপাদক ও ক্রেতার মাঝে পারস্পরিক ক্রিয়াশীল এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে অধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য অবহিত হতে পারে এবং সহজে ক্রয় করতে পারে। প্রত্যক্ষ এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের মাঝে পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, ব্র্যান্ড ইমেজ প্রতিষ্ঠা, ব্র্যান্ড ইমেজ বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট প্রসারমূলক কার্যাবলির প্রতি প্রতিক্রিয়া ও সাড়া প্রদান বৃদ্ধি এবং ক্রেতা সুসম্পর্ক সৃষ্টি সহজভাবে করতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণনকে আবার বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়।

এই পাঁচ ধরনের প্রসার হাতিয়ারসমূহ চূড়ান্ত ভোক্তাদের নিয়োজিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিতকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে যা সংক্ষেপে সারণি ৯.১ এ দেখানো হয়েছে। সঠিক বিপণন প্রসারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার ডিজাইন, ক্রয় মূল্য, মোড়কের আকৃতি ও রং, বিপণন পরিবেশ, বিক্রয়কর্মীর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সফল এবং কার্যকর প্রসার মিশ্রণ তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানের বিপণন মিশ্রণের সমগ্র উপাদনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন ।
সমন্বিত বিপণন যোগাযোগব্যবস্থা
পূর্ববর্তী পাঠে আমরা বিপণন প্রসারের বিভিন্ন হাতিয়ারসমূহ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। বিপণন প্রসার মিশ্রণ বা যোগাযোগ মিশ্রণের প্রতিটি উপাদানই ক্রেতা সমাগাম বৃদ্ধি পণ্য ভ্যালু সৃষ্টি এবং ভোক্তা সুসম্পর্ক অর্জনে বিপণনকারীকে সহোযোগিতা করে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিশ্বায়নের কারণে বর্তমানের ভোক্তারা অনেক বেশি সতেচন এবং চাহিদাসম্পন্ন। ভোক্তারা সহজেই যেকোনো পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সমগ্র পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সমজাতীয় পণ্যের সাথে তুলনা করতে পারে। একই সাথে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অধিক ভ্যালু সম্পর্কিত পণ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
ইন্টারনেট, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যম ভোক্তাদের অধিক চাহিদা এবং পণ্য যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বিপণনকারীকে তার বিপণন মিশ্রণের হাতিয়ারসমূহকে সতর্কতার সহিত সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হয়। এই প্রয়াসকে সমন্বিত বিপণন যোগাযোগ প্রক্রিয়া বলা হয় । চিত্র ৯.২: সমন্বিত বিপণন যোগাযোগব্যবস্থা অনেক প্রতিষ্ঠান যোগাযোগের একটি বা দুটি হাতিয়ারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও সফলতার জন্য যোগাযোগের সব হাতিয়ার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে হয়।
এক্ষেত্রে মাধ্যম সমন্বয় করা যেতে পারে। ভালো ফলাফল লাভের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম কিংবা একই মাধ্যমের মধ্যে অর্থাৎ ব্যক্তিক ও নির্ব্যক্তিক যোগােেযাগ প্রণালির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে। মোটকথা, বিপণন যোগাযোগের হাতিয়ারসমূহের সুসমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য এবং সফলতা অর্জিত হয়।
Philip Kotler Gary Aramstrong-4, “Integrated Marketing Communications is carefully integrating and cordinating the company’s many communicaton channels to deliver a clear, consistant and compeling massage about the organization and its products.” fe প্রতিষ্ঠান এবং তার পণ্য সম্পর্কিত স্পষ্ট, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আবেদনময়ী বার্তা প্রেরণের জন্য যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে একত্রীকরণ ও সমন্বয় সাধনকে সমন্বিত বিপণন যোগাযোগ বলে ।

সারসংক্ষেপ
একটি পণ্য উৎপাদনের পর বিপণনকারীর প্রধান দায়িত্ব হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি ও আকর্ষণ অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ভোক্তাদের কাছে প্রেরণ করা এবং বিপণনের ব্যবস্থা করা। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্য | সম্পর্কিত তথ্য প্রদান, ভোক্তা আকর্ষণ তৈরি ও বৃদ্ধি এবং দক্ষতার সাথে ভোক্তার নিকট সর্বোত্তম ভ্যালু সরবরাহের ব্যবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলির সমষ্টিকেই বিপণন প্রসার বা বিপণন যোগাযোগ বলে ।
বর্তমান যুগে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নতুন নতুন প্রতিযোগীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিপণনকারীকে বিপণন প্রসার সংক্রান্ত সমস্ত হাতিয়ারকে একত্র করে সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হয়। বিপণন প্রসার বা যোগাযোগ মিশ্রণ বলতে বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিক বিক্রয়, বিক্রয় প্রসার, জনসংযোগ, প্রত্যক্ষ বিপণন ইত্যাদি প্রসারমূলক হাতিয়ারের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তা ভ্যালু অবহিতকরণ, ভোক্তা সম্পৃক্ততা ও ভোক্তা সুসম্পর্ক গঠন এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিতকরণকে বোঝায়। বিপণন যোগাযোগ মিশ্রণে প্রধানত পাঁচ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে।
সেগুলো হলো- বিজ্ঞাপন, বিক্রয় প্রসার, জনসংযোগ ও প্রচার, ব্যক্তিক বিক্রয় এবং প্রত্যক্ষ ও ডিজিটাল বিপণন (অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যম বিপণন, | মোবাইল বিপণন এবং সরাসরি ও ডেটাবেস বিপণন)। বিপণনকারীকে তার বিপণন মিশ্রণের হাতিয়ারসমূহকে সতর্কতার | সহিত সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হয় এবং এই প্রয়াসকে সমন্বিত বিপণন যোগাযোগ প্রক্রিয়া বলা হয়। ভালো ফলাফল লাভের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম কিংবা একই মাধ্যমের মধ্যে অর্থাৎ ব্যক্তিক ও নির্ব্যক্তিক যোগাযোগ প্রণালির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে। মোটকথা, বিপণন যোগাযোগের হাতিয়ারসমূহের সুসমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রাতিষ্ঠানিক | উদ্দেশ্য এবং সফলতা অর্জিত হয়।

