পণ্য ও এর প্রকারভেদ আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ও এসবিবিএ ২৪০৫ বিপণন ব্যবস্থাপনা” এর “পণ্য ও সেবা কৌশল” ইউনিট ৯ এর অন্তর্ভুক্ত।

পণ্য ও এর প্রকারভেদ
পণ্য কী? What is Product ?
মানুষের প্রয়োজন, অভাব অথবা সন্তুষ্টি বিধানে সক্ষম এমন বস্তু পণ্য হিসাবে বিবেচিত। মানুয় দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু ভোগ বা ব্যবহার করে তার সবই পণ্য হিসাবে বিবেচিত। অন্য কথায় পণ্য হলো এমন দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান সকল জিনিস যা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং যার মধ্যে কিছু উপযোগ আছে। Philip Kotler & Gary Armstrong পণ্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে “পণ্য হলো এমন কোন বিষয় যা বাজারে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সংগ্রহ বা ভোগের জন্য উপস্থাপন করা হয়; যার মধ্যে রয়েছে বাস্তবিক কোন বস্তু, সেবা, ব্যক্তিগত ভাব বা অবস্থা, স্থান, প্রতিষ্ঠান ও ধারণা।” পণ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যথা- পণ্যের বিক্রয়যোগ্যতা রয়েছে; অভাবমোচনের ক্ষমতা; উপযোগিতা; মুনাফাযোগ্যতা; আইনানুগ গ্রহণযোগ্যতা; অর্থনৈতিক মূল্য; এবং ভোক্তার সন্তুষ্টি বিধানে সক্ষমতা রয়েছে।
পণ্যের স্তরসমূহ Levels of Product
একটি পণ্যকে প্রস্তুত করার সময় পাঁচটি স্তর বিবেচনায় রাখা হয়, যেন পণ্যটি ক্রেতা বা ভোক্তাকে সন্তুষ্ট করতে পাণ্ডে যা চিত্র ৯.১ এ দেখানো হয়েছে। তাই পণ্য পরিকল্পনাকারী পাঁচটি স্তরকে এমনভাবে সাজিয়ে পণ্য তৈরি করে যার ফলে ক্রেতা বা ভোক্তা প্রতিটি স্তরেই উপযোগীতা লাভ করতে পারে।
১. মৌলিক সুবিধা (Core Benefit) :
যেকোন পণ্য ক্রয় করার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো মৌলিক সুবিধা বা সেবা লাভ করা। যেমন- কোনো মোবাইল ফোন ক্রয় করার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ করা ।
২. বস্তুগত পণ্য (Generic Benefit):
পণ্যের মৌলিক সুবিধার সাথে সাথে কিছু দৃশ্যমান উপাদান যুক্ত করা হয় যেন পণ্যটি বস্তুগত রূপ ধারণ করতে পারে। সাধারণত, পণ্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, ডিজাইন, ব্র্যান্ড, প্যাকেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে বস্তুগত পণ্য তৈরি করা হয়। যেমন- কোন মোবাইলের ব্যবহার উপযোগী আবয়ব, মোবইলের চার্জার, ব্র্যান্ড ও প্যাকেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে বস্তুগত পণ্য তৈরি করা হয়।
৩. প্রত্যাশিত পণ্য (Expected Product):
এই স্তরে ক্রেতার প্রত্যাশা অনুযায়ী কতগুলো গুণের সমন্বয় করা হয়। যেমন- মোবাইলের ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্যের নিশ্চয়তা, আধুনিক ও আকর্ষণীয়তা ডিজাইন, সময়োপযোগী এ্যাপস ইত্যাদি। যদি সব কোম্পানি ন্যুনতম এইসব উপাদান দিয়ে ক্রেতার প্রত্যাশা পূরণ করে তাহলে ক্রেতা নিরপেক্ষ থাকে এবং সুবিধাজনক যেকোনো কোম্পানির পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী থাকে।

৪. বর্ধিত পণ্য (Augmented Product ) :
এই পর্যায়ে কোনো প্রত্যাশিত পণ্যের সাথে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় যেন ক্রেতা বা ভোক্তার মাঝে চাহিদার পাশাপাশি আগ্রহেরও সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে বিক্রেতা প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারে। যেমন- মোবাইল বিক্রি করার সাথে বিক্রেতা যদি বিক্রয়োত্তর সেবা, ওয়ারেন্টি ইত্যাদি প্রদান করে তা বর্ধিত পণ্য হিসেবে ধরা হয়।
৫. সম্ভাব্য পণ্য (Potential Product):
এই পর্যায়ে বর্ধিত পণ্যের উপর ভিত্তি করে ক্রেতার ভবিষ্যতে কী ধরণের চাহিদা হতে পারে তা বিক্রেতা দেবার চেষ্টা করে। সম্ভাব্য পণ্য হলো সেই পণ্যসুবিধা যা ক্রেতা ভবিষ্যতে আশা পাওয়ার আশা করে। যেমন- মোবাইল ফোনে এমনকোনো প্রযুক্তি আনা যেতে পারে যেনো তা সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাটারী চার্জ থাকবে, সোলার পাওয়ারে চার্জ হবে অথবা মজবুত স্ক্রীণ থাকবে ইত্যাদি।
পণ্যের শ্রেণিবিভাগ ( Product Classification):
মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ও প্রতিযোগীতা মূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই প্রতিনিয়ত গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসছে। মূলত পণ্যের প্রকৃতি ও ক্রেতা একটি পণ্যকে কিভাবে দেখে এই বিবেচনায় সকল ধরনের পণ্যকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এই দুই ভাগের একটি হচ্ছে ভোগ্য পণ্য এবং শিল্প পণ্য ।
১. ভোগ্য পণ্য (Consumer Goods) :
যে সব পণ্য পুনঃবিক্রয় বা কোন রকম প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই সরাসরি ভোগ বা ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে ভোগ্য পণ্য বলা হয়। ভোক্তা বা ব্যবহারকারীই এ পণ্য ক্রয় করে সরাসরি ভোগ করে থাকে। যেমন- চাল, ডাল, টুথপেষ্ট, সাবান, টেলিভিশন ইত্যাদি। ব্যবহারের ভিত্তিতে ভোগ্যপণ্যকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায় যা ৯.২ চিত্রে দেখানো হলো-

ক) সুবিধাজনক পণ্য (Convenience Products):
যেসব পণ্য রয়েছে যা ভোক্তা বা ব্যবহারকারীরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কাছাকাছি দোকান থেকে বিশেষ তুলনামূলক বিচার না করেই ক্রয় করার চেষ্টা করে তাদেরকে সুবিধাজনক পণ্য। যেমন- ঔষধপত্র, পেন্সিল, কলম, সাবান; আবার পঁচনশীল দ্রব্য যথা- তাজা ফল, আইসক্রিম, ব্রেড ইত্যাদি সামগ্রী ভোক্তারা সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত দোকান থেকে ক্রয় করতে চায় বলে এসবকে সুবিধাজনক পণ্য বলা হয়ে থাকে। সুবিধাজনক পণ্য চার প্রকার। নিম্নে এদের বিবরণ দেওয়া হলো
i) অত্যাবশকীয় পণ্য (Staples Products):
কিছু পণ্য রয়েছে যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অতীব প্রয়োজনীয় । যেমন- খাবার জিনিস এবং ঔষধপত্র অত্যাবশকীয় পণ্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ii) তাৎক্ষনিক পছন্দ পণ্য (Impulse Products ) :
যেসব পণ্য লোকজন বিশেষ চিন্ত-ভাবনা না করেই ঝোঁকের মাথায় ক্রয় করে থাকে সেগুলোকে তাৎক্ষনিক পছন্দ পণ্য বা লোভনীয় পণ্য বলে। যেমন- ফুলানো বেলুন, সুন্দর খেলনা বা চকোলেট।
iii) জরুরি পণ্য (Emergency Products):
সবধরণের পণ্যই জরুরি পণ্য হতে পারে পরিস্থিতি কারণে । হঠাৎ করেই কোন পণ্যের জরুরি দরকার হয়ে পড়লে তাকে জরুরি পণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। প্রয়োজন হলেই কোন ব্যক্তি তা ক্রয় করতে বাধ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল না করেই ক্রেতা তা ক্রয় করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন মোটরগাড়ির চালক ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের যাত্রাপথে হঠাৎ মোটরগাড়ির একটি টায়ার চলার অযোগ্য হয়ে পড়লে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ২০০০ টাকা মূল্যের টায়ার ২৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হন। মোটর চালকের জন্য তখন টায়ারটি একটি জরুরি পণ্য। স্বাভাবিক সময়ে টায়ার তার জন্য জরুরি পণ্য নয়।
iv) গৃহে সরবরাহকৃত পণ্য (Delivered Products) :
যে সকল পণ্য ভোক্তার গৃহে সরবরাহ করা হয় সেগুলোকে গৃহে সরবরাহকৃত পণ্য বলা হয়। দুধ, সংবাদপত্র, বরফ, শাক-সবজি ইত্যাদি এ শ্রেণির পণ্যের উদাহরণ।
খ) বিশিষ্ট পণ্য (Specialty Products):
যেসব ভোগ্য পণ্যের আকর্ষণ ও চাহিদা ভোক্তাদের একটা বিশেষ দলের নিকট এতটাই জনপ্রিয় যে, তারা পণ্যগুলো লাভের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বিশেষ ক্রয়-প্রচেষ্টা চালাতে সদা প্রস্তুত থাকে। এ জাতীয় ভোগ্য পণ্যকে বিশিষ্ট পণ্য নামে সংজ্ঞায়িত করা হয়। নেক-টাই, বিশেষ ধরনের কাপড় (যথা- জিন্সের প্যান্ট পিস), উচ্চমানের ফ্যাশনেবল জুতো, দামী ও আকর্ষণীয় ডিজাইনবিশিষ্ট ঘড়ি, প্রসাধনী ইত্যাদি বিশিষ্ট পণ্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
গ) সপিং পণ্য (Shopping Products):
যেসকল ভোগ্য পণ্য ক্রয় করার আগে ভোক্তা পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক বাজেট তৈরি করে, ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যকারণ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এদের উপযোগীতা, গুণাগুণ, মূল্য ও ষ্টাইলের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দোকানে তুলনামূলক বিচারবিশ্লেষণ করে ক্রয় করে, তাদের সপিং পণ্য বলে। যেমন- স্বর্ণ-রৌপের গহনা, আসবাবপত্র, রেডিও- টেলিভিশন, ক্যামেরা ইত্যাদি সপিং পণ্যের উদাহরণ। বৈশিষ্ট্যের তারতম্য অনুসারে সপিং পণ্যকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; যথা-
i) সৌখিন পণ্য (Fashion Products ) :
সৌখিনতা এক ধরনের স্টাইল যা একটি বিশেষ সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সৌখিনতার সাথে সম্পর্কিত বলেই এইসব ভোগ্যপণ্যকে সৌখিন পণ্য বলা হয়। এই পণ্য নিজস্ব বাহ্যিক চাকচিক্য, বিশিষ্টতা বা স্টাইল দ্বারা ক্রেতাকে প্রলুদ্ধ করে ও তা ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করে । আসবাবপত্র, অলংকার, শিল্পীর আঁকা ছবি বা শিল্পকর্ম সৌখিন পণ্যের উদাহরণ।
ii) সেবা পণ্য (Service Products):
যেসব সপিং পণ্যের স্থায়িত্ব দীর্ঘ এবং যেগুলোর কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য মেরামত বা সার্ভিসিং প্রয়োজন হয়, সেসব পণ্যকে সেবা পণ্য বলা হয়। এ জাতীয় পণ্যের মূল্যও বেশি হয়ে থাকে। রিফ্রিজারেটর, অটোমোবাইল, রেডিও, টেলিভিশন এবং অন্যান্য গৃহসামগ্রী সেবা পণ্যের উদাহরণ।
২. শিল্প পণ্য (Industrial Goods):
যেসব পণ্য সরাসরি ভোগ না করে পুনঃবিক্রয় বা পুনঃউন্নয়নের উদ্দেশ্য ক্রয় করা হয় বা যে সকল পণ্য প্রধানত ভোগ্য পণ্য তৈরীর কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে শিল্প পণ্য বলে। শিল্প উদ্যোক্তারাই এ পণ্য ক্রয় করে থাকে। যেমন- কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, স্থাপনা, আধা প্রস্তুত পণ্য ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। ব্যবহারের ভিত্তিতে শিল্পপণ্যকে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয় :

ক) কাঁচামাল (Raw Materials):
যেসব শিল্পপণ্য চূড়ান্ত পণ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যা সংরক্ষণ, পরিবহন বা নাড়াচাড়ার সুবিধা ব্যতীত অন্য কোনো কারণে ইতিপূর্বে প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি সেসব পণ্যকে কাঁচামাল বলা হয়। বিপণনের সুবিধার্থে এই পণ্যকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়; যথা (ক) কৃষিজাত কাঁচামাল; যেমন- গম, ধান, চাউল, তুলা, শস্য, ফল, সব্জি, গৃহপালিত পশু এবং পশুজাত দ্রব্য ইত্যাদি এবং (খ) প্রাকৃতিক কাঁচামাল; যেমন- খনিজ দ্রব্য, ভূমি, বনজ সম্পদ ও সামুদ্রিক সম্পদ ইত্যাদি।
খ) আধা-প্রস্তুত পণ্য ও যন্ত্রাংশ (Fabricating Materials and Parts ) :
যেসব শিল্পপণ্য চূড়ান্ত পণ্যের অংশবিশেষে পরিণত হয় এবং কিছুটা প্রক্রিয়াজাতকরণের পর উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় সেগুলো আধা- প্রস্তুত পণ্য ও পণ্যাংশ নামে পরিচিত। তার, স্টীলের পাত, লৌহদন্ড, তন্তুজাত পণ্য (সুতা), কাগজ, সিমেন্ট ইত্যাদি আধা-প্রস্তুত পণ্যের উদাহরণ। অন্যদিকে, টায়ার, অটোমোবাইলের ব্যাটারি, স্পার্ক প্লাগ, রাইফেলের ব্যারেল, সার্টের বোতাম ইত্যাদি যন্ত্রাংশের উদাহরণ। এসব সামগ্রীর রূপ (form) পরিবর্তন না করেই চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
গ) ভারি যন্ত্রপাতি ও সম্পত্তি (Installation) :
এ জাতীয় শিল্পপণ্য খুবই বৃহৎ ও দামি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত পণ্যের অংশে পরিণত হয় না। ভারী যন্ত্রপাতি ও সম্পত্তি প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত; (ক) দালান ও ভূমিস্বত্ব (Building and Land Rights); যেমন- কারখানা, গুদামঘর, খুচরা দোকান, অফিস বিল্ডিং, খনি ইত্যাদি হলো। এবং (খ) প্রধান যন্ত্রপাতি ( Major Equipment); যেমন- বড় বড় মেশিনারি, যথা— ডিজেল ইঞ্জিন, বয়লার, ট্রাকটর, চুল্লী, রোলিং মিল্স ইত্যাদি।
ঘ) আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ( Accessory Equipment):
আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এক ধরনের শিল্পপণ্য যা শিল্পীয় উৎপাদকদের উৎপাদন কার্যে সহায়তা করে কিন্তু পণ্যের চূড়ান্ত রূপের অংশীদার হয় না। ভারী যন্ত্রপাতির চেয়ে আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির প্রত্যাশিত আয়ু কম থাকে। টাইপরাইটার, ফাইলিং বক্স, হিসাবরক্ষণ মেশিন, ছোট লেদ মেশিন, খুচরা দোকানের ক্যাশ রেজিস্ট্রার ইত্যাদি আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির উদাহরণ ।
ঙ) সহায়ক সামগ্রী (Operating Supplies ) :
যেসব শিল্পপণ্য প্রস্তুত পণ্যের উপাদানের অংশ নয় অথচ প্রতিষ্ঠানের কার্যে সহায়তা করে থাকে এমন পণ্যকে বলা হয় সহায়ক সামগ্রী। এসব সামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণামূলক বা মেরামতের কিংবা প্রতিষ্ঠানের কার্যে সহায়তামূলক হতে পারে। মেঝে পরিস্কারক মোম, লুব্রিকেটিং তেল, পেনসিল ও স্টেশনারী, বাথরুম পরিস্কারের সামগ্রী, বৈদ্যুতিক বাল্ব, জানালার কাঁচ পরিস্কারের জিনিসপত্র ইত্যাদি সহায়ক সামগ্রীর উদাহরণ।
চ) ব্যবসায়িক সেবা (Business Services) :
ব্যবসায়িক সেবাকে বিপণনের ভাষায় ‘শিল্পপণ্য’ হিসেবে গণ্য করা। হলেও এটি অবশ্যই চূড়ান্ত পণ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ (Maintenance), মেরামত জাতীয় সেবা (Repair Services) এবং ব্যবসায়িক পরামর্শমূলক সেবা (Business Advisory Services) ব্যবসায়িক সেবার অন্তর্ভুক্ত। এসব সেবা সাধারণত চুক্তি মোতাবেক প্রদান করা হয়।
পণ্য ও এর প্রকারভেদ পাঠের সারসংক্ষেপ:
পণ্য হলো এমন দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান সকল জিনিস যা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং যার মধ্যে কিছু উপযোগ আছে। পণ্য পরিকল্পনাকারী পাঁচটি স্তরকে এমনভাবে সাজিয়ে পণ্য তৈরি করে যার ফলে ক্রেতা বা ভোক্তা প্রতিটি স্তরেই উপযোগীতা লাভ করতে পারে। সেই স্তরগুলো হলো- মৌলিক সুবিধা, বস্তুগত পণ্য, প্রত্যাশিত পণ্য, বর্ধিত পণ্য ও সম্ভাব্য পণ্য। সকল ধরনের পণ্যকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এই দুই ভাগের একটি হচ্ছে ভোগ্য পণ্য এবং শিল্প পণ্য। ভোক্তা বা ব্যবহারকারীই ভোগ্য পণ্য ক্রয় করে সরাসরি ভোগ করে থাকে। ব্যবহারের ভিত্তিতে ভোগ্যপণ্যকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়;
যথা – ক) সুবিধাজনক পণ্য; খ) বিশিষ্ট পণ্য ও গ) সপিং পণ্য। অন্যদিকে, যেসব পণ্য সরাসরি ভোগ না করে পুনঃবিক্রয় বা পুনঃউন্নয়নের উদ্দেশ্য ক্রয় করা হয় বা যে সকল পণ্য প্রধানত ভোগ্য পণ্য তৈরীর কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে শিল্প পণ্য বলে। ইহা ছয় প্রকার; যথা – – ক) কাঁচামাল, খ) আধা-প্রস্তুত পণ্য ও যন্ত্রাংশ, গ) ভারি যন্ত্রপাতি ও সম্পত্তি, ঘ) আধুনিক যন্ত্রপাতি, ঙ) সহায়ক সামগ্রী, এবং চ) ব্যবসায়িক সেবা।
