মূল্য ও মূল্যর উদ্দেশ্য আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ও এসবিবিএ ২৪০৫ বিপণন ব্যবস্থাপনা” এর “মূল্য নির্ধারণের কৌশলসমূহ” ইউনিট ১০ এর অন্তর্ভুক্ত।
মূল্য ও মূল্যর উদ্দেশ্য
মূল্য কী ?
What is Price ?
বিপণন মিশ্রণের একটি উপাদান হলো মূল্য। বিপণন মিশ্রণের মধ্যে শুধুমাত্র মূল্য থেকেই প্রতিষ্ঠান আর্থিক সুবিধা লাভ করে; বাকি সবগুলো উপাদান- পণ্য, প্রসার, বণ্টন হলো ব্যয়। মূল্য কোন পণ্যের আর্থিক মূল্যমানকেই মূল্য বলা হয় টাকা-পয়সা, ডলার বা পাউন্ড-ষ্টার্লিং যেকোন মুদ্রায় মূল্য প্রকাশ করা যায়। যে দেশে মুদ্রার যে নাম প্রচলিত, সে নামেই পণ্যের মূল্য প্রকাশ করা হয় ।সাধারণত কোন পণ্য বা সেবার দামকে সেই পণ্যের বা সেবার মূল্য বলে হয়ে থাকে। অর্থাৎ ক্রেতা ও বিক্রেতা যখন দর কষাকষির মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবার একটি দাম বা মূল্যমান স্থির করে তাকে মূল্য বলে। Philip Kotler & Gary Armstrong মূল্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে, “মূল্য হচ্ছে একটা পণ্য বা সেবার জন্য ধার্যকৃত অর্থের পরিমাণ।”
একজন ভোক্তা একটা পণ্য ভোগের মাধ্যমে বা কোন সেবা গ্রহণের মাধ্যমে যে সুবিধা পেল এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ দাতাকে প্রদান করে তাকে মূল্য বলে। বিপণনে মূল্য বলতে এমন একটি বিন্দু বা পয়েন্টকে বুঝানো হয় যেখানে বিক্রেতা যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে ইচ্ছুক, ক্রেতাও ঠিক একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে রাজি থাকে।

মূল্য সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ
Factors Affecting Pricing Decisions
প্রতিষ্ঠান মুনাফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিণ ও বাহ্যিক উপাদান রয়েছে যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে যা চিত্র নং ১০.১ এ উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । বর্তমান ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যে সব ক্ষেত্রে মুনাফার সম্ভাবনা উজ্জ্বল এবং সহজে প্রবেশ করা যায়, সে সব পণ্যের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা প্রবল হতে পারে। তাছাড়া, সমজাতীয় পণ্য, বিকল্প পণ্য ইত্যাদি থেকেও প্রতিযোগিতা আসে। এই প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় এনে পণ্য মূল্য স্থির করা উচিত তা না হলে বাজার টিকে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
পণ্যের প্রকৃতিও মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে। কী ধরনের পণ্য, পণ্যটা নতুন অথবা পুরাতন, পণ্যের ব্যবহার বৈশিষ্ট্য কী ইত্যাদি অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। শিল্প পণ্য ও ভোগ্যপণ্য দু’ধরনের বৈশিষ্ট্যযুক্ত তাই মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। উৎপাদন বা ক্রয় খরচের উপর নির্ভর করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বা পণ্যের ক্রয়মূল্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মূখ্য বিবেচ্য। কেননা পণ্যের মূল্যের মাধ্যমে এই ব্যয় নির্বাহ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়ে যাবে।

এই ব্যয়ের সাথে মুনাফা যোগ করে সাধারণত বিক্রয়মূল্য ধার্য্য করা হয়। প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক উপাদান হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি, সমৃদ্ধি বা মন্দা, সুদের হার ইত্যাদি অর্থনৈতিক উপাদান বিবেচনায় এনে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। কেননা, এই অবস্থা পণ্যের মূল্যমান, ক্রেতা উপলব্ধি ও সর্বোপরি উৎপাদন ব্যয়কে প্রভাবিত করে। আবার, পণ্যমূল্য নির্ধারণের সময় সরকারী বিধি-বিধান বিবেচনায় আনা দরকার। কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে বা সরকারী নীতির পরিপন্থি হলে বা অন্য কোন বিধি যা মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে তা বিবেচনা করা দরকার। এই সব উপাদান বিবেচনা করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটা পণ্যের মূল্য স্থির করা যা ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সেই সাথে দেশের আর্থ-সামাজিক ও আইনগত প্রেক্ষাপটে প্রয়োগযোগ্য হবে ।

সারসংক্ষেপ
একজন ভোক্তা একটা পণ্য ভোগের মাধ্যমে বা কোন সেবা গ্রহণের মাধ্যমে যে সুবিধা পেল এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ দাতাকে প্রদান করে তাকে মূল্য বলে। পণ্য মূল্য নির্ধারণে যেসব বিষয় প্রভাব বিস্তার করে তার মধ্যে | প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা | প্রয়োজন। পণ্যের প্রকৃতিও মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে।
কী ধরনের পণ্য, পণ্যটা নতুন অথবা পুরাতন পণ্যের ব্যবহার বৈশিষ্ট্য কী ইত্যাদি অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। উৎপাদন বা ক্রয় | খরচের উপর নির্ভর করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বা পণ্যের ক্রয়মূল্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মূখ্য বিবেচ্য। প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক উপাদান হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পণ্যমূল্য নির্ধারণের সময় সরকারী বিধি-বিধান বিবেচনায় আনা দরকার।

১ thought on “মূল্য ও মূল্যর উদ্দেশ্য”