নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল

নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি ওএসবিবিএ ১২০৫ বিপণন নীতিমালা” এর  “পণ্য, সেবা ও ব্র্যান্ড” ইউনিট ৬ এর অন্তর্ভুক্ত।

 

নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল

 

নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল

New Development Product Strategy

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে ভোক্তাদের জ্ঞান, চাহিদা, অভিরুচি পছন্দ অনেক দ্রুত পরিবর্তনশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নের (Globalization) প্রভাবে ভোক্তাদের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য বিপণনকারীকে নিত্যনতুন পণ্য, পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং সেবা সংযোগ করতে হয়। প্রয়োজন হয় প্রতিনিয়ত নতুন পণ্য বাজারে উপস্থাপন করার। নতুন পণ্য বলতে পূর্বে কোথাও কোনো অস্তিত্ব ছিল না এমন পণ্যকে বোঝায়। নতুন পণ্যকে তিনভাবে বর্ণনা করা যায়। প্রথমত, কোনো নতুন কোম্পানি ক্রয়, কোনো পণ্যের স্বত্ব ক্রয় বা লাইসেন্সিং ক্রয়ের মাধ্যমে নতুন পণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নতুন পণ্য উন্নয়ন বিভাগের মাধ্যমে নতুন পণ্য পেতে পারে। তৃতীয়ত, একটি প্রতিষ্ঠান যদি তার পণ্য সারিতে নতুন কোনো পণ্য সংযোজন করে তাকেও নতুন পণ্য বলা যাবে। বর্তমান পণ্যের মডেলের পরিবর্তন, নতুন গুণাগুণ সংযুক্তকরণ, পণ্যকে নতুন কোনো ব্র্যান্ডে উন্নয়নও নতুন পণ্য হিসেবে গণ্য হবে। নতুন পণ্য প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা উভয়ের জন্য নতুন সুবিধাদির সমাহার এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভোক্তার সন্তুষ্টি ও আনুগত্য অর্জনের পথ তৈরি করে। নতুন পণ্য প্রতিষ্ঠানের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

কারণ প্রতিটি পণ্যই একটি নির্দিষ্ট সময় পরে বাজার থেকে বিলীন হয়ে যায় অথবা ভোক্তা আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। নতুন পণ্যই প্রতিষ্ঠানকে মুনাফা অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। অপরপক্ষে, নতুন পণ্য ভোক্তাদের জন্য তাদের নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান হিসেবে কাজ করে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সময়ের সাথে ভোক্তা অভিরুচির যে পরিবর্তন নতুন পণ্যতে হয়, নতুন পণ্য তাতে ভোক্তার জীবনযাত্রা সহজতর করার প্রয়াসমাত্র।

 

Marketing, Marketing Gurukul, GOLN, মার্কেটিং, মার্কেটিং গুরুকুল, বিপণন, مارکیٹنگ , تسويق , विपणन

 

নতুন পণ্য উন্নয়ন প্রক্রিয়া

New Product Development Process

যদিও নতুন পণ্য উন্নয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক কিন্তু নতুন পণ্য উন্নয়ন অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ প্রয়াস। আবার অনেক নতুন পণ্য সফল হয় না। ভোক্তাদের অভিরুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানকে একটি শক্তিশালী নতুন পণ্য পরিকল্পনা এবং নিয়মানুযায়ী ও ভোক্তাকেন্দ্রিক নতুন পণ্য উন্নয়ন প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে। সেখান থেকে সময়োপযোগী সকল নতুন পণ্য উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়। নিচে নতুন পণ্য উন্নয়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো :

১. নতুন ধারণা সংগ্রহ (New Product Idea Generation) : নতুন ধারণা সংগ্রহের মাধ্যমে নতুন পণ্যের উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন পণ্যের ধারণা সংগ্রহের বিভিন্ন উৎস হতে পারে, যেমন: প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টা, ভোক্তাগণ, প্রতিযোগীদের পণ্য, বিপণনকারীর এজেন্টস, কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং অন্যান্য ।

২. ধারণা বাছাই (Idea Screening): ধারণা বাছাই পর্বের কাজ হলো অসংখ্য নতুন পণ্য ধারণা থেকে মুনাফাযোগ্য নতুন পণ্যের ধারণা খুঁজে বের করা এবং অবাস্তব ধারণাগুলোকে বাতিল করা। ধারণা বাছাইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানের ভোক্তা চাহিদা, ব্যয়, সামর্থ্য ও কাঁচামাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বিবেচনা করা হয়।

৩. ধারণা উন্নয়ন (Concept Development and Testing): সম্ভাব্য নতুন পণ্য ধারণা পরীক্ষা থেকে এ পর্যায়ে একটি নতুন পণ্যের ধারণা বা concept এবং পণ্যের ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়। পণ্যের ধারণা বা concept হলো পণ্য ধারণা থেকে বিস্তারিত পণ্য ভোক্তার ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা এবং একটি নির্দিষ্ট ভোক্তা গ্রুপের কাছে পণ্যের ধারণা পরীক্ষণ করা হয়।

৪. বিপণন কৌশল উন্নয়ন (Marketing Strategy Development) : ধারণা উন্নয়ন এবং পরিক্ষণ দ্বারা মূলত সবচেয়ে ভালো নতুন পণ্য ধারণা খুঁজে বের করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে ওই পণ্যের ধারণা বিপণনের জন্য একটি বিস্তারিত এবং প্রয়োজনীয় বিপণন কৌশল ডিজাইন করা হয়।

৫. বাজার বিশ্লেষণ (Business Analysis) : বাজার বিশ্লেষণ বলতে একটি পণ্য ধারণার সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুযোগ- সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়। এ পর্যায়ে উক্ত পণ্যের ব্যয়, বিক্রয় মুনাফা ও ভবিষ্যৎ সম্ভব্যতা এবং প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা হয়।

৬. পণ্য উন্নয়ন (Product Development): অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পণ্যের ধারণা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। এ পর্যায়ে বাজার বিশ্লেষণের অনুকূল ফলাফল পণ্য ধারণাগুলোকে বাস্তব পণ্যে রূপান্তর এবং ভোক্তাদের ব্যবহার উপযোগী করে উৎপাদনে সহায়তা করে।

৭. পরীক্ষামূলক বিপণন (Test Marketing): পরীক্ষামূলক বিপণন পর্যায়ে সম্ভব্য পণ্য এবং এর জন্য প্রস্তাবিত বিপণন প্রোগ্রামগুলো নির্দিষ্ট এবং প্রকৃত ভোক্তার নিকট প্রদান করে পরীক্ষণ করা হয়।

৮. বাণিজ্যিকীকরণ (Commercialization): এটা হচ্ছে নতুন পণ্য উন্নয়নের সর্বশেষ ধাপ। পরীক্ষামূলকভাবে একটি পণ্য বাজারে ছাড়ার পর বাজার যদি ভোক্তারা পণ্যকে গ্রহণ করে নেয় তাহলে পণ্যটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখানে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় তা হলো- কখন পণ্যটি ছাড়তে হবে। কোথায় ছাড়তে হবে, কাদের উদ্দেশ্যে ছাড়তে হবে এবং কীভাবে ছাড়তে হবে।

 

নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল

 

সারসংক্ষেপ

নতুন পণ্য প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা উভয়ের জন্য নতুন সুবিধাদির সমাহার এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভোক্তার সন্তুষ্টি ও আনুগত্য অর্জনের পথ তৈরি করে। বাজারে প্রচলিত পণ্যের নবায়ন অথবা কোনো কোম্পানির পণ্য সারিতে যে পণ্য ছিল না তা সংযোজনকে নতুন পণ্য বোঝায়। বর্তমান পণ্যের মডেলের পরিবর্তন, নতুন গুণাগুণ সংযুক্তকরণ, পণ্যকে নতুন কোনো ব্র্যান্ডে উন্নয়নও নতুন পণ্য হিসেবে গণ্য হবে।

ভোক্তাদের অভিরুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য | প্রতিষ্ঠানকে একটি শক্তিশালী নতুন পণ্য পরিকল্পনা এবং নিয়মানুযায়ী ও ভোক্তাকেন্দ্রিক নতুন পণ্য উন্নয়ন প্রক্রিয়া তৈরি করতে হয়। নতুন পণ্য উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে আটটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথা: নতুন পণ্য ধারণা সৃষ্টি, ধারণা বাছাই করা, ধারণা উন্নয়ন এবং অভীক্ষণ, বিপণন কৌশল নির্ধারণ, ব্যবসায় বিশ্লেষণ, পণ্য উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক বিপণন ও বাণিজ্যিকীকরণ।

নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল

১ thought on “নতুন পণ্য উন্নয়ন কৌশল”

Leave a Comment